স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে রয়েছে। যেহেতু দেশটি একক খাতের রফতানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, তাই বৈচিত্র্যকরণ অপরিহার্য। এলডিসি থেকে উত্তরণ হোক বা না হোক, অবশ্যই রফতানি বৈচিত্র্য আনতে হবে। উত্তরণের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে অবশ্যই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ কারণে সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে, তার থেকে সুযোগ বেশি।
রাজধানীর মতিঝিলে গতকাল ‘বাংলাদেশের রফতানি খাতের বৈচিত্র্য: স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সেমিনারটি আয়োজন করে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
সেমিনারে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর আমরা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারাব। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। এজন্য খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো দেশ বন্ধু নয়, সবাই প্রতিযোগী—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা মেনে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চ্যালেঞ্জের তুলনায় সামনে সুযোগ অনেক বেশি। একসঙ্গে কাজ করতে পারলে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব।’
একটি শিল্প খাতে একাধিক সংগঠন থাকার সমালোচনা করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের একেকটা পণ্যের অনেকগুলো অ্যাসোসিয়েশন। ৮০০-৯০০ মিলিয়ন ডলারের একটা রফতানি শিল্পের পাঁচটা অ্যাসোসিয়েশন। তাদের সামষ্টিক কণ্ঠস্বর নেই। তারা নিজেরা নিজেরা ভাংচুর করে, নিজেদের কথা বলার জায়গাটাকে অসম্ভব করে তুলেছে এবং সামগ্রিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পথ মসৃণ করতে কৌশল তৈরি করেছে সরকার। এখন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে কোথায় কোথায় চ্যালেঞ্জ আসবে, তা খুঁজে বের করা দরকার। সুযোগ-সুবিধা আদায়ে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য সংগঠনগুলোয় আলাদা বিভাগ করা প্রয়োজন।’
গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর ২২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দরকার। এজন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোম্পানি যেভাবে বড় হচ্ছে, তা দিয়ে এ বিপুল কর্মসংস্থান সম্ভব না। এজন্য সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন হবে।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, তার মধ্যে অন্যতম পণ্য বৈচিত্র্যকরণ। এক্ষেত্রে কোন কোন পণ্য ও খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন, তা খুঁজে বের করে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।’
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।